তিলক ও তুলসীমালা ধারণ



পদ্ম-পুরাণে উল্লেখ করা হয়েছে, কিভাবে তিলক ও কণ্ঠিমালার দ্বারা বৈষ্ণব-শরীর বিভূষিত হওয়া উচিত। “যিনি কণ্ঠে তুলসীমালা ধারণ করেন, যাঁর শরীরে শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম---এই বিষ্ণুচিহ্ন সহ দ্বাদশ অঙ্গে বিষ্ণুমন্দির অঙ্কিত হয়, যিনি মস্তকে বৈষ্ণব তিলক ধারণ করেন, তিনিই এই জগতে বিষ্ণুভক্ত অর্থাৎ বৈষ্ণব। এই বৈষ্ণবদের উপস্থিতির ফলে জগৎ পবিত্র হয়। তিনি যেখানে অবস্থান করেন, সেই স্থান বৈকুণ্ঠে পরিণত হয়।"

স্কন্দ-পুরাণেও এইভাবে বলা হয়েছে, “যিনি তিলক অথবা গোপীচন্দনের দ্বারা বিভূষিত হয়ে সমস্ত শরীরে ভগবানের নাম ধারণ করেন এবং যাঁর কণ্ঠে ও বক্ষঃস্থলে তুলসীমালা থাকে, সেই বৈষ্ণবদের কাছে যমদূত আসতে পারে না।”

যমদূতেরা হচ্ছে পাপীদের দণ্ডদাতা ও মৃত্যুর দেবতা যমরাজের অনুচর। বৈষ্ণবেরা কখনও এই ধরনের যমদূদের আয়ত্তাধীন নন। শ্রীমদ্ভাগবতে অজামিল উদ্ধার পর্বে বলা হয়েছে যে, যমরাজ তাঁর দূতদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, কখনও বৈষ্ণবদের কাছে না যেতে। বৈষ্ণবেরা যমরাজের নিয়ন্ত্রণাধীন নন।

পদ্ম-পুরাণেও বলা হয়েছে, “যে মানুষের শরীর চন্দন ও ভগবানের দিব্য নামের দ্বারা বিভূষিত, তিনি সব রকম পাপ থেকে মুক্ত হয়েছেন, এবং  তাঁর মৃত্যুর পর তিনি পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গলাভ করার জন্য কৃষ্ণলোকে প্রবিষ্ট হন।"

Post a Comment

0 Comments