💖💖💖 শ্রী শ্রী নিত‍্যানন্দ ত্রয়দশী কথামৃত 💖💖💖

আজ অভিন্ন চৈতন্যতনু কলিপাবনাবতার  পরমদয়াল পতিতপাবন প্রেমদাতা শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভুর শুভ  আর্বিভাব তিথি নিত্যানন্দ ত্রয়োদশী। । ১৩৯৫ শকে (১৪৭৩ খ্রীঃ) মাঘী শুক্লা- ত্রয়োদশী তিথিতে বীরভূম জেলার একচক্রাধামে বর্তমান নাম বীরচন্দ্রপুর, কলিযুগপাবনাবতার প্রেমদাতা, পরমদয়াল, করুনাময় শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভুর আর্বিভূত হন। পিতা নাম শ্রী হাড়াই পন্ডিত ও মাতা পদ্মাবতী। শ্রীশ্রীভক্তমাল গ্রন্থে হাড়াই পণ্ডিতের অন্য নাম শ্রীমুকুন্দ ঠাকুর বলেও উল্লেখ আছে।
            " তার মাতা পিতা পদ্মাবতী শ্রীমুকুন্দ।
               রাঢ়ে স্থিত যাহার গৃহেতে পূর্ণচন্দ্র ",,,,,
বাস্তবিক পক্ষে হাড়াই পণ্ডিত ও মুকুন্দ ঠাকুর যে একই ব্যক্তি সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রেমবিলাসের চতুর্বিংশ বিলাসে বলা হয়েছে,,,,
"চন্দ্রকেতুর পুত্রে নাম সুন্দরমল্ল নকড়ি বাঁড়ুরী
   তার পুত্র হাড়ু ওঝা মুকুন্দ নাম যাঁরি "।।
          পিতামহের নাম সুন্দরমল্ল বাড়ুরী। তাঁরা ছিলেন রাঢ়দেশীয়, সাণ্ডিল্য গোত্রীয় ব্রাহ্মন।
 পিতামাতার কোলে সাতটি সন্তানের মধ্যে নিত্যানন্দ ছিলেন জ্যেষ্ঠ। অন্যদের নাম কৃষ্ণানন্দ, সর্বানন্দ, ব্রহ্মানন্দ, পুর্ণানন্দ, প্রেমানন্দ, ও বিশুদ্ধানন্দ। নিত্যানন্দ প্রভুর আর্বিভাব কাল নির্ণয় সম্বন্ধে অদ্বৈতপ্রকাশ গ্রন্থে  এই শ্লোকটি পাওয়া যায়,,,,,,
          " তেরশত পঁচানব্বই শকে মাঘ মাসে
            শুক্ল ত্রয়োদশীতে রামের পরকাশে "।।
শ্রীমন নিত্যানন্দপ্রভুর জন্মস্থানকে অনেকে একচক্রা গর্ভাবাস বলে থাকেন। শ্রীকৃষ্ণপ্রেমতরঙ্গিনীর ১০/২/৭ স্থানেও গর্ভাবাস নাম পাওয়া যায়।
" ছয় পুত্র হৈল যদি দৈবকির নাশ
সপ্তমে অনন্ত আসি কৈল গর্ভাবাস। "
শ্রীমৎ দ্বিজপদ গোস্বামী লিখেছেন,,,," প্রবাদ আছে শ্রীমতী পদ্মাবতী ঠাকুরানীর গর্ভকালে আচম্বিতে এক যোগীরাজ হাড়াইপণ্ডিতের গৃহে আগমন করে, " এই গর্ভাবাস এই গর্ভাবাস বলে নৃত্য করেছিলেন। তিনিই ছদ্মবেশী গর্গাচার্য্য মুনি। তার আগমনে এতাদৃশ প্রেমবিকার দর্শনে সকলেই সমবেত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন,,,, " আপনি কি বলছেন আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। তিনি বলেছিলেন, শ্রীকৃষ্ণের অগ্রজ শ্রীবলরাম আসছেন। ব্রজের রোহিণী দেবীই পদ্মাবতী। বলদেবের এখানেই গর্ভবাস। অতঃপর গর্ভাবাস গর্ভাবাস বলে ছদ্মবেশী গর্গমহাশয় অন্তর্হিত হলেন। রোহিনী ও বসুদেব এবং সুমিত্রা ও দশরথের মিলিত বিগ্রহই পদ্মাবতী ও মুকুন্দ ঠাকুর। গৌর পরিকর শিবানন্দসেনের আত্মজ কবিকর্ণপুর, তাঁর গৌরগণোদ্দেশদীপিকায় বলেছেন, -----
     "রোহিনীবসুদেবৌ যৌ পিতরৌ রামকৃষ্ণায়
     পদ্মাবতীমুকুন্দৌ তৌ সন্তৌ জাতৌ দ্বিজোত্তমৌ। শ্রীসুমিত্রাদশরথৌ তাবপ্যবিশতামমু ",,,, (৪০)
                  নিত্যানন্দের কৈশরে নাম ছিল কুবের। মাত্র দ্বাদশ বৎসর পর্যন্ত গৃহে ছিলেন। হঠাৎ একদিন এক জনৈক সন্ন্যাসী এসে পুত্র কুবেরকে ভিক্ষাস্বরুপ প্রার্থনা করলেন। জনমের তরে  প্রাণসম প্রিয় পুত্রকে দিয়ে দিতে হবে ভেবে পিতামাতার বুক কেঁপে উঠল। কিন্তু সন্ন্যাসীর অভিসম্পাতের ভয়েই হোক বা পুত্রের অকল্যানের ভয়েই হোক সন্তানকে সন্ন্যাসীর হাতে তুলে দিলেন। কোন সংকীর্ণতা স্পর্শ করতে পারেনি এই অবধুত সন্ন্যাসীকে।নিত্যানন্দ প্রভু সন্ন্যাসীর সাথেই পর্যটনে প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত তীর্থ ভ্রমন করে বোম্বাই প্রদেশের পাণ্ডারপুর নামক স্থানে মাধবেন্দ্রপুরির নিকট মন্ত্র দিক্ষা নিলেন। বৈদ্যনাথ, গয়া,প্রয়াগ ঋষ্য পর্বত,মহেন্দ্র পর্বত, ধেনুতীর্থ প্রভৃতি বহু দেশ পরিভ্রমন করে বৃন্দাবনে এসে উপস্থিত হলেন। আর গোপবেশে বৃন্দাবনে জনে জনে জিজ্ঞাসু নয়নে খুঁজে বেড়িয়েছেন ভাই কানাইকে ।শুনতে পেলেন নবদ্বীপে ভাই কানাই এসেছে। ছুটতে শুরু করলেন  নবদ্বীপ অভিমুখে । নন্দনাচার্য্যের বাড়ীতে প্রথম মিলন হয় ভাই গৌরসুন্দরের । শ্রীবাস অঙ্গন থেকে শুরু হয় প্রেমদাতা নিত্যানন্দের হরিনাম সংকীর্তনের বিজয়যাত্রা। নবদ্বীপ লীলায় ভক্তি তত্ত্বই হলেন শ্রীমন নিত্যানন্দ।  কোনো যুগে কোনো কালে ভগবান যে সম্পদ দেন নি,কলিহত জীবের দূর্দশার কথা চিন্তা করে  সেই গোপন সম্পদ , রাইকিশোরীর ভাণ্ডারের গচ্ছিত প্রেমধনের ভাণ্ড নিয়ে এসেছিলেন গৌর সুন্দর, আর সেই প্রেমধনের ভাণ্ড দিলেন নিতাইচাঁদের হাতে। নিতাইচাঁদ অকাতরে জীবের দ্বারে দ্বারে গিয়ে অযাচিত ভাবে আচণ্ডালে বিলিয়ে দিলেন। তাই গৌর সুন্দর বললেন,,,,,,
       " তোমার সে প্রেমভক্তি তুমি প্রেমময়
         বিনে তুমি দিলে কারো ভক্তি নাহি হয় "।
নিতাইচাঁদের কৃপা ভিন্ন গৌরসুন্দরের কৃপা লাভ সম্ভব নয়। রাঘব পণ্ডিতকে সাবধান করে মহাপ্রভু বললেন,,,,,,,
   "রাঘব তোমারে আমার নিজ গোপ্য কই
    আমার দ্বিতীয় নেই নিত্যানন্দ বই ",,,,,,,,নিত্যানন্দ প্রভু এমনই দয়া যে জগাই মাধাই কলসী দিয়ে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দিলেন তার পরেও তাদের উদ্ধার করলেন। মহাপ্রভুর সন্ন্যাস নেওয়ার পর তিনি পুরীধামেও প্রভুর নিত্যসঙ্গী হয়েই ছিলেন। কিন্তু তাতে মহাপ্রভুর
অভিপ্রেত কর্ম সার্থক হবে না। তাই তিনি নিত্যানন্দকে পাঠিয়ে দিলেন বঙ্গভূমিতে।
"গৌড়ে রহি মোর ইচ্ছা সফল করিবা
       তাহা সিদ্ধি করে হেন অন্য না দেখিয়ে
আমার দুস্কর কর্ম্ম তোমা হৈতে হয়ে"।..... (চৈ চঃ) এবং প্রভুর ইচ্ছাতেই নবদ্বীপের উত্তরে সালীগ্রামের সূর্যদাস সরখেল পণ্ডিত মহাশয়ের দুই কন্যা জাহ্নবা মাতা ঠাকুরাণী এবং বসুধামাতা ঠাকুরাণীর পাণিগ্রহণ করেন।
        নিত্যানন্দ প্রভুর মহিমা অপার। বৃন্দাবন দাসঠাকুর বলেছেন........
                "অতি গূঢ় নিত্যানন্দ এই অবতারে
            চৈতন্য জানায় যারে সে জানিতে পারে।"
বিভিন্ন বৈষ্ণবিয় গ্রন্থে নিত্যানন্দ প্রভুর মহিমার কথা প্রকাশ করা হয়েছে। চৈঃ চঃ আদি ১/৭-১১ সকল ভক্তগনের উপাস্য তত্ত্ব,চৈঃ চঃ ১/১৮-১৯ ভক্তিকল্পবৃক্ষের স্কন্ধস্বরুপ। গৌরগণোদ্দেশদীপিকায় মহা সংকর্ষণ ও শেষাদি স্বরুপে বর্ণনা করা হয়েছে। "সঙ্কর্ষণঃ কারণতোশায়ী গর্ভোদশায়ী চ পয়োদ্ধিশায়ী শেষশ্চ যস্যাকলাঃ স নিত্যানন্দাখ্যরামঃ শরণং মমাস্তু।। "(চৈ চঃ),,,,,,, সঙ্কর্ষণ, কারণাব্ধিশায়ী নারায়ণ,গর্ভোদশায়ী নারায়ণ, ক্ষীরোদশায়ী নারায়ণ এবং অনন্ত ইহারা যাহার অংশকলা, সেই নিত্যানন্দ নামক বলরামকে শ্মরণ করি। অনঙ্গমঞ্জরী - সম্পুটিকায় নিত্যানন্দেই অনঙ্গমঞ্জরীর অন্তঃপ্রবেশ বলা হয়েছে। পরোক্ষ প্রকৃতি এবং প্রত্যক্ষে পুরুষ বলে ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে (ধরণীশেষ সংবাদে)  পাওয়া যায়। আবার বৃন্দাবন দাস ঠাকুরকৃত ঐশ্বর্যামৃত কাব্যে এবং রসকল্পসারতত্ত্ব গ্রন্থে নিতাইচাঁদের নিগূঢ় রহস্যময় তত্ত্ব ও তথ্যের কথা জানা যায়। শ্রীধ্যানচন্দ্র গোস্বামীকৃত পদ্ধতিতে (৫০-৭২ ) মধ্যে নিত্যানন্দপ্রভুর ধ্যান ও গায়ত্রীর বিষয়ে জানা যায়। ব্রহ্মাণ্ডপুরাণে (ধরণী-শেষ সংবাদ) প্রচ্ছন্ন ভাবে নিত্যানন্দের মন্ত্রের কথা বলা হয়েছে।,,,,, " অন্তে চ বহ্নিজায়া সাৎ আদৌ তারো নমস্তথা। জাহ্নবেতি পদং মধ্যে বল্লভায় ততঃপরম্। ইতি মন্ত্রং দ্বাদশার্ণং সর্বভাবমনোহরম্। যঃ পুমান্ সাধয়েৎ দেবি।লভতে বাঞ্ছিতং ফলম্।। " গৌরগনোদ্দেশদীপিকার (৫৮-৬৪) বিভিন্ন শ্লোকেও নিত্যানন্দ প্রভুর বিষয়ে আমরা জানতে পারি। শ্রীঅভিরাম গোপালকৃত গঙ্গাদেবীর  স্তোত্রে, প্রেমবিলাস ও ভক্তিরত্নাকরে, সার্বভৌম ভট্টাচার্য এবং বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের বিভিন্ন অষ্টকে নিত্যানন্দ প্রভুর মহিমা যেমন উজ্জ্বল তেমনি দীর্ঘপঞ্চশতাধিক বৎসরে বিভিন্ন পণ্ডিত, বাগ্মী,ঐতিহাসিক, ভজনবিজ্ঞ এবং মহাজন পদকর্তার অনুভবপ্রমাণময় বাণীচিত্রেও শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর রুপ, গুন, লীলাকথা প্রদীপ্ত। তাই শ্রীল বৃন্দাবন দাস ঠাকুর বলছেন,.......
    " সংসারের পার হই ভক্তির সাগরে
       যে ডুবিবে সে ভজুক নিতাই চাঁদেরে "।।
সবার ওপর আমার পরম দয়াল নিতাইচাঁদের কৃপা বর্ষিত হউক,সকলের হৃদয়ে নিত্য আনন্দ স্বরুপ নিত্যানন্দ বিরাজ করুন,  এই প্রার্থনা করি নিতাইচাঁদের কোটিচন্দ্র সুশীতল রাতুল চরণে। 🙏🏻🙏🏻
"নিত্যানন্দ! নমস্তুভ্যং প্রেমানন্দ-প্রদায়িনে।
কলৌ কল্মষঃ-নাশায় জাহ্নবা-পতয়ে নমঃ।। "🙏🏻🙏🏻

÷<{ জয় জয় নিতাই চাঁদ ♥ জয় গৌর সুন্দর }>÷

Post a Comment

0 Comments