
পুরাকালে মুচুকুন্দ নামে এক সুপ্রসিদ্ধ রাজা ছিলেন। তাঁর কন্যার নাম ছিল চন্দ্রভাগা। চন্দ্রসেনের পুত্র শোভনের সাথে তার বিয়ে হয়। একবার শোভন রমা একাদশীর দিনে শ্বশুর বাড়িতে এলে পত্নী চিন্তিত হন, কেননা শোভন ক্ষুধা সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু তার পিতার শাসন এতই কঠিন যে দশমীর দিনেই সমস্ত রাজ্যে একাদশী ব্রত পালনের কথা ঘোষণা করা হয়। একাদশীর দিনে সেই রাজ্যের পশুপাখি পর্যন্ত জল স্পর্শ করে না। তা সত্ত্বেও শোভন একাদশী ব্রত পালনের জন্য রাজি হলেন। সমস্ত দিন অতিক্রান্ত হয়ে রাত শুরু হলো। শোভনের পক্ষে তা বড়ই দুঃখ দায়ক হয়ে উঠলো এবং ক্ষুধা-তৃষ্ণায় দুর্বল হয়ে সেই রাত অতিক্রান্ত হলে সূর্যোদয়ের সময় তার মৃত্যু হল। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সাড়ম্বরে সম্পন্ন হল। কালক্রমে রমাব্রতের প্রভাবে শোভন মন্দরাচল শিখরে অনুপম সৌন্দর্য বিশিষ্ট এক রমণীয় দেবপুরী প্রাপ্ত হন। একসময় সোমশর্ম্মা নামে এক ব্রাহ্মণ তাকে সেই অবস্থায় দেখে চিনতে পারেন এবং তার কাছ থেকে জানতে পারেন তার এই ঐশ্বর্যমণ্ডিত অবস্থার কারণ। ফিরে এসে তিনি চন্দ্রভাগার কাছে সব জানালেন। চন্দ্রভাগা অত্যন্ত আনন্দিত হয় কিন্তু শোভন যেই নগরে ছিল তা স্থির ছিল না সেজন্য চন্দ্রভাগা তার ব্রত পালনের পুণ্যপ্রভাবে সেই নগরকে স্থির করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর বামদেবের আশ্রমে ঋষির কৃপায় ও হরিবাসর পালনের ফলে সে দিব্য শরীর ধারণ করল এবং দিব্য গতিলাভ করে স্বামীর নিকট উপস্থিত হল। এরপর স্বামীকে জানালো, দীর্ঘ আট বছর যাবৎ রমা একাদশী ব্রত পালনের পুণ্য প্রভাবে সেই নগর স্থির হবে এবং মহাপ্রলয় পর্যন্ত থাকবে।
এই একাদশী মহা পাপনাশকারী ও ভক্তিমুক্তি প্রদায়িনী। যে ব্যক্তি এই ব্রতকথা শ্রবণ করেন, তিনি সর্বপাপ মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে পূজিত হন।
0 Comments