১৯৯৫ সালে শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ লন্ডনে তাঁর একটি প্রবচনে বলেন - "ভগবান দেখেন আমরা কত কষ্ট সহ্য করছি। বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও গুরুদেব ও ভগবানের আদেশ পালনের জন্য আমরা কতটুকু কষ্ট সহ্য করছি। এ ধরনের সংকল্প, কষ্ট সহনীয়তায় ভগবান খুব খুশি হয়ে থাকেন।" মহারাজের এই প্রবচনের তাৎপর্য মহারাজ তাঁর নিজের

জীবনে আচরণের মাধ্যমেই আমাদেরকে দেখাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন, কিন্তু এতো অসুস্থতার মধ্যেও তিনি এক মূহুর্তের জন্যও তাঁর প্রচারকার্য থেকে অব্যাহতি নেননি। বিভিন্ন ব্যায়াম, থেরাপি ও চিকিৎসার মাঝেও তিনি নিরন্তর কৃষ্ণভাবনায় থেকে কৃষ্ণসেবামূলক বিভিন্ন কার্যে যুক্ত রয়েছেন এবং সর্বক্ষণ তাঁর গুরুদেবের নির্দেশ পালনে সচেষ্ট রয়েছেন।
আজ সকালে মহারাজ প্রায় ৪৫মিনিটের জন্য বিভিন্ন ব্যায়াম করেছেন এবং তারপর প্রাণায়াম করেছেন। এরপর তিনি সহায়তাকারীর সাহায্যে ৩৫পদক্ষেপ হেঁটেছেন।
এরপর তিনি মায়াপুর টিভিতে ইউটিউব চ্যানেলে মায়াপুরের মঙ্গল আরতি দর্শন করেছেন।
সকালে প্রায় ৯টা ৩০মিনিটে তিনি মন্দির থেকে পরীক্ষার জন্য রেলা হাসপাতালে রওনা হয়েছিলেন। মন্দির থেকে বের হওয়ার আগে রঙ্গ কৃষ্ণ প্রভু মহারাজের জন্য শ্রীবিগ্রহের মহামাল্য ও চরণামৃত নিয়ে এসেছিলেন।
মহারাজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে, অনেক ইমেইল শুনেছেন এবং তাঁর উত্তর লিখতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সকালে সর্বোচ্চ যানজট ছিল, তাই হাসপাতালে পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় লেগেছে। কিন্তু মহারাজ সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তাঁর ইমেইলের উত্তরগুলি প্রদান করেছিলেন এবং বিভিন্ন ভক্তদের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন।
মহারাজের শিষ্য কীর্তনপ্রিয় দাস, যিনি ওখানকার মন্দিরে সেবা করেন, তিনি মহারাজকে একটি ভিডিও কল করেছিলেন এবং বেলপুকুরে শ্রী শ্রী মদনগোপাল বিগ্রহের অপূর্ব দর্শন লাভ করিয়েছিলেন।
হাসপাতালে ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করার সময় তিনি কিছু প্রতিবেদন এবং সাম্প্রতিক তথ্য শুনেছিলেন।
মহারাজ হাসপাতাল থেকে রমণীপতি প্রভুর সাথে কথা বলেছিলেন এবং তিনি মহারাজকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের দেবগ্রামের একটি জমির নিবন্ধন সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করেছেন - যেখানে শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর আবির্ভূত হয়েছিলেন।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার কারণে মহারাজকে খালি পেটে থাকতে হয়েছিল। তাই তিনি দুপুরের প্রসাদ খেতে পারেননি। তারপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম গ্রহণ করার পর, তিনি বিকেল ৫টায় সহ-পরিচালকদের মিটিংয়ে যোগদানের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। কিন্তু মিটিংটি বাতিল হওয়ায়, তিনি সেই সময়টি, ইসকন সেন্টার ফর ভ্যালু এডুকেশনে(আইসিভিই) তাদের ব্যবহৃত সুযোগ-সুবিধার একটি ডেমো দেখতে অতিবাহিত করেছিলেন। এই সুযোগ-সুবিধাগুলি দেখার জন্য মহারাজ হাসপাতাল থেকে অনলাইনে যোগদান করেছিলেন।
হাসপাতালে সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে, রাত ৯:৩৫ টার দিকে তিনি চেন্নাই মন্দিরে তাঁর কক্ষে ফিরে আসেন।
আজ রাতে, তিনি শ্রীমদ্ভগবদগীতার "জ্ঞানযোগ" শীর্ষক চতুর্থ অধ্যায়ের একাদশ ও দ্বাদশ নং শ্লোক অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছেন।
বি. দ্র. : যেমনটা আপনারা সকলেই অবগত আছেন, এই মুহূর্তে মহারাজ শারীরিকভাবে অনেকটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তবুও তিনি নিরবিচ্ছিন্নভাবে শ্রীল প্রভুপাদের প্রতি তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। প্রতি মুহূর্তে মহারাজ তাঁর আচরণের মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশ এবং শ্রীল প্রভুপাদের শিক্ষাকে আমাদের মাঝে প্রচার করে চলেছেন। তাই অনুগ্রহ করে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীল প্রভুপাদের কাছে আপনারা আন্তরিকভাবে প্রার্থনা নিবেদন করুন যাতে মহারাজ পূর্ববৎ তাঁর শক্তি-সামর্থ্য ফিরে পান এবং শ্রীল প্রভুপাদের উদ্দেশ্যে তাঁর বিভিন্ন সেবা চালিয়ে যেতে পারেন। এ লক্ষ্যে আপনারা অতিরিক্ত জপ, নৃসিংহ কবচ পাঠ, ৮ বার তুলসী পরিক্রমা করতে পারেন এবং আপনার অতিরিক্ত জপ সংখ্যা ও প্রার্থনার বিবরণ জমা দিন নিম্নের লিংকে:
এন্ড্রয়েড
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.jayapatakaswami.jpsapp
আইফোন
https://apps.apple.com/us/app/id967072815
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজের দৈনন্দিন আপডেট মহারাজের কাছ থেকেই জানতে এখনই আপনার স্মার্টফোনে ডাউনলোড করুন 'Jayapataka Swami' অ্যাপটি। https://play.google.com/store/apps/details?id=com.jayapatakaswami.jpsapp
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজের সকল বার্তা, বাণী এবং প্রবচন বাংলায় পেতে সার্বক্ষণিক সংযুক্ত থাকুন 'Jayapataka Swami Bangla' ফেসবুক পেইজ
0 Comments