মূর্তিপূজার রহস্য: পর্ব - ০১

সুপ্রিয় পাঠক ও জাগ্রত ছাত্র সমাজ।
হরেকৃষ্ণ। আমাদের সমাজের কমন কিছু সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে একটি ধারাবাহিক ফিচার লেখার আশা রেখেছি। ইতোপূর্বে আপনাদের জানানোও হয়েছে। মূর্তিপূজা বা বিগ্রহ সেবা- এ নিয়ে ঢের সন্দিহান যুব সমাজ। শাস্ত্র-বিমূখ যুব-সমাজ থেকে শুরু করে গ্রামের সাধারণ নারী-পুরুষ সবাই এর মধ্যে ডুবে হাবু-ডুবু খাচ্ছে। অনেকে কনভার্টও হচ্ছে যুক্তির গ্যারাকলে পড়ে। অনেককে আবার ইমোশনালী ব্ল্যাকমেইল কিংবা হিপনোসিসের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। এসবের মূলকারণ হলো অজ্ঞতা। আমি আপনি যদি আমাদের সুমহান আর শ্রেষ্ঠ সনাতন ধর্ম সম্পর্কে বিন্দুমাত্রও জানি এবং তা মনেপ্রাণে উপলব্ধি বা রিয়ালআইজ করার চেষ্টা করি, আমি ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি- এ ধর্ম থেকে বিয়োগ নয় যোগ হবে দলে দলে। যেমনটি সারাবিশ্বেই হচ্ছে। আপনারা জানেন সংস্কৃত শব্দের পরিকল্পিত অপব্যাখ্যা হচ্ছে সেই মোঘল আমল থেকেই! অস্ত্র আর শিকার সবই ছিল হিন্দু সমাজ বা সনাতন সমাজ। সাম্প্রতিক কালে
“ন তস্য প্রতিমা অস্তি” অপব্যাখ্যাও দেখেছেন আপনারা এর সমাধানও আসছে শীঘ্রই।
জানতে Iskcon Family-ইসকন পরিবার পেইজে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে নিজের পাশাপাশি বন্ধুদেরও জানার সুযোগ করে দিন। হরেকৃষ্ণ।

আবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের ছাত্র। এ বছর প্রথম বারের মতো সে জগন্নাথ হলে দূর্গাপূজা দেখবে। জগন্নাথ হল মানে হিন্দু সংস্কৃতি চর্চার এক সুবৃহৎ চারণভূমি। সারা বাংলাদেশের সব হিন্দু মেধাবী তরুণ ছাত্রের মিলনমেলা এ জগন্নাথ হল। সে সূত্রে বলা যায়, হিন্দু সমাজের এক বৃহৎ অংশের প্রতিনিধিত্ব করে এ জগন্নাথ হল। আবির এ হলেরই আবাসিক ছাত্র হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সুবিশাল পরিসরে হলে পূজার আয়োজন দেখে তার মন আনন্দে নেচে ওঠে। সে ছিল সংস্কৃতিমনা, তাই পূজার বিভিন্ন আয়োজনে তার অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে সে তার ক্লাসের বন্ধুদেরও নিমন্ত্রণ দিল পূজায় আসার জন্য। সে যখন তার ক্লাসে বন্ধুদের পূজোর নিমন্ত্রণ দিচ্ছিল, তখন তার এক বন্ধু তাকে জিজ্ঞেস করল--

বন্ধুঃ আচ্ছা আবির, কিছুদিন পরেই তো তোদের পূজা। আসলে তোর কাছে আমার কিছু প্রশ্ন ছিল। ঠিক প্রশ্ন না, মন্তব্য।

আবিরঃ হ্যাঁ, বল না কী মন্তব্য।

বন্ধুঃ তোরা যে প্রতিমা বা মূর্তি পূজা করিস, তা তো কেবল মাটি, খড়, পাথর, কাঠ বা ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি। এরকম একটা মূর্তিকে যে তোরা দেবী বা সৃষ্টিকর্তা বলে পূজা করিস, এ বিষয়টি আমি আসলে মেনে নিতে পারি না।

আবিরঃ দেখ, এটা আমাদের ধর্মবিশ্বাস; আমাদের পূর্বপুরুষেরাও এভাবেই পূজা করে এসেছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, প্রতিমা বা মূর্তির মধ্যে দেবী বা ভগবান অবস্থান করে পূজা গ্রহণ করেন।

বন্ধুঃ বিশ্বাস, নাকি অন্ধবিশ্বাস? আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে এমন অর্বাচীন কুসংস্কারকে তোরা এখনো আঁকড়ে ধরে আছিস?
- তোরা যেসকল মূর্তি তৈরি করছিস তা কাল্পনিক রূপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
- তোদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদেই তো বলা হয়েছে- “ন তস্য প্রতিমা অস্তি”। মানে তাঁর কোন প্রতিমা নেই। তবে তোরা কীভাবে তার প্রতিমা তৈরি করে পূজা করিস?
--একটা বিষয় একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখ; যদি মূর্তিতে দেবতারা থাকেনই, তবে যে মূর্তিকে কয়েকদিন পূজা করলি, সেই মূর্তিকেই আবার জলে ভাসিয়ে দিচ্ছিস কীভাবে? এর দ্বারা কি প্রমাণ হয় না যে, এটা কেবল পুতুল খেলা ছাড়া আর কিছুই নয়?
--যদি ধরেই নিই যে, মূর্তিতে দেবতারা অবস্থান করেন, তবুও আমার প্রশ্ন-যদি তোরা মূর্তিকে আরাধ্য বা পূজনীয় বলে মনে করিস, তবে কীভাবে তার সামনে
--আধুনিক সিনেমার গান চালিয়ে অশালীন ভঙ্গিমায় নৃত‍্য করিস?
--মদ, গাঁজা বা নেশা ভাঙ খেয়ে মাতলামি করিস?
--এটা কী ধরণের শ্রদ্ধা প্রদর্শন?
তাই আবির, আমার মনে হয় আধুনিক শিক্ষত যুবক হিসেবে তোর এ ধরনের ভ্রান্ত মতবাদের প্রতি অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করে সত্যের অনুসন্ধান করা উচিত।
- আমি তোকে এ বিষয়ে কিছু বই ও কিছু ওয়েবসাইট লিংক দিচ্ছি, তাতে তোর এ বিষয়ে ধারণা আরো স্পষ্ট হবে।

বন্ধুর কথা শুনে আবির চরম বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে। তার এতদিনের শ্রদ্ধা-বিশ্বাস যেন কয়েকটি প্রশ্নের সাইক্লোনে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।  সে তার বন্ধুর এ সকল প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি। তারপর হলে এসে তার বন্ধুর দেয়া লিংকগুলো ভিজিট করে মূর্তিপূজার ভ্রান্তি বিষয়ে আরো কিছু লেকচার শোনে। শুনে সে  মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয় এবং সিদ্ধান্ত নেয় যে, সে আর কখনো মূর্তিপূজা করবে না এবং অন্যরাও যেন না করে সেজন্য সে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তখন সে তার আর এক বন্ধুকে একই বিষয়ে বলে। কিন্তু তার এই বন্ধুটি ছিল কিছুটা সচেতন। সে ইতোমধ্যে কিছু শাস্ত্রগ্রন্থ অধ্যয়ন করেছে, তাই সে আবিরের কথায় বিভ্রান্ত হয়নি; বরং তাকে শান্ত করে নিকটস্থ এক মন্দিরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। বন্ধুর পরামর্শ নিয়ে আবির মন্দিরে যায়। তখন এসব বিষয়ে তার সাথে এক সন্ন্যাসীর কথা হয়, যা নিম্নরূপ: (চলবে)
আগামীকাল থাকছে
ন তস্য প্রতিমা অস্তি” –অপব্যাখ্যার সমাধান

Post a Comment

0 Comments