ইসকন মায়াপুরে উঠে আসলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য!! শ্রীল ভক্তি বিনোদ ঠাকুরের নবদ্বীপ মহিমা গ্রন্থের রহস্যময় উন্মোচন!!!

২৯ ডিসেম্বর,২০২৫ শ্রীধাম মায়াপুর লেখক:শ্রী শ্রীমৎ শীবরাম স্বামী মহারাজের কৃপাধন্য শিষ্য। কার্তিক চন্দ্র দাস আমার আধ্যাত্মিক নাম কার্তিক চন্দ্র দাস এবং আমি ❝শীবরাম স্বামী ❞গুরুমহারাজের একজন একনিষ্ঠ শিষ্য। আমি সকল ভক্তবৃন্দের নিকটে একটি অপ্রাকৃত এবং অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে আলোকপাত করতে চাই যা ❝শ্রীধাম মায়াপুর❞ - এ সংঘটিত হয়েছে যা কিনা একই সাথে অলৌকিক এবং অত্যন্ত মঙ্গলজনক। গত ২৯ শে নভেম্বর আনুমানিক রাত ১০ ঘটিকায় আমরা বেলপুকুর মদনগোপাল মন্দির হতে একটি বৈষ্ণবসেবা শেষে প্রত্যাবর্তন করছিলাম। ফিরতি পথে একটি বৃহৎ বটগাছ পেড়িয়ে আসার পর আমি প্রত্যক্ষ করলাম কোনো কিছু একটা আমার মোটরবাইকের সামনে হঠাৎ করে দাড়িয়ে আছে। আমি তৎক্ষনাৎ বাইক থামিয়ে দিলাম কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার কাউকেই দেখতে পেলাম নাহ! পরক্ষণেই আমি আমার কানের কাছে একটি ফিসফিস শব্দ শুনতে পেলাম। আমি তৎক্ষনাৎ চারিপাশ পর্যবেক্ষণ করলাম এবং কাউকে অবলোকন না করতে পেরে এবং অস্বস্থির শিকার হয়ে বাইকটি চালু করি এবং স্থানটি প্রত্যাখান করি। পরবর্তীতে ঐরাতেই আমি এক অদ্ভুত স্বপ্ন দর্শন করি। আমি স্বপ্নে একজন রমনীকে অবলোকন করি ,যিনি লাল শাড়ি,লাল টিপ এবং লাল কুমকুমে সুসজ্জিত ছিলেন। ঐ রমনী আমাকে বাংলাতে বলতে লাগলেন যে ❝উনার মুক্তির জন্যে উনাকে গঙ্গাজল অর্পণ করতে হবে❞। যখন আমার নিদ্রাভঙ্গ হয়,আমার গুরুভ্রাতা ❝রামানুজ❞ যে আমার সাথেই বাস করেন, আমাকে একটি রেকর্ডিং দর্শন করান যা আমার তন্দ্রাবস্থায় উনি সংরক্ষণ করেছিলেন। আমি তন্দ্রাবস্থায়ই একটি বাঙ্গালি ছড়া আবৃত্তি করছিলাম। সেই ছড়াটিতে একটি কুণ্ড সম্বন্ধে বলা ছিলো যাতে শ্রীমন্মহাপ্রভু স্নান করতেন এবং ছড়াটিতে আরো বলা ছিলো যে সেই কুণ্ডে একটি বিগ্রহ পুনরুদ্ধার হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। ঐ ছড়াটিতেই এটাও বলে ছিলো যিনি এই অপ্রাকৃত বিগ্রহ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবেন,অনতিবিলম্বে যেনো ঐ বিগ্রহের নিত্য সেবার বন্দোবস্ত করেন এবং যারা মানসপটে ভক্তিভাব এবং তীব্র বাসনা নিয়ে বিগ্রহটি দর্শন করবেন তারা তৎক্ষণাৎ কৃষ্ণপ্রেম প্রাপ্ত হবেন। আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় এইসব কথা ব্যক্ত করেছিলাম বলে আমার কোনো স্মরণ ছিলোনা কিন্তু রেকর্ডিংয়ে তা স্পষ্টতই উল্লেখ ছিলো! আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় যা বলেছিলাম : যেই কুণ্ডে গোরাচাঁদ করিলেন স্নান। সেই স্থানে আছে এক ঠাকুর মহান।। আদিরূপ উদ্ধার যাহাদের হাতে। নিত্যসেবা প্রতিষ্ঠা করিবে সাথে সাথে।। বিগ্রহ দর্শনে হইবে যার মতি। কৃষ্ণ পাবে অবশ্যই হইবে তার গতি।। পরবর্তী দিবায় আমি এবং আমার গুরুভ্রাতারা এবং ভক্তসখারা মিলে অনুসন্ধান চালাই যে কোন কুণ্ডে মহাপ্রভু স্নান করতেন! অনুসন্ধানে আমরা তিনটি স্থানের উদ্ধৃতি খুঁজে পাই : ১.গঙ্গা; ২.মহাপ্রভুর জন্মস্থানের পাশে গৌরকুণ্ড (ভক্তিরত্নাকর,সজ্জনতোষনী) ৩.খোলাবেঁচা শ্রীধরের বাড়ির পাশের সরোবর,যেখানে মহাপ্রভু কীর্তন করার পর ক্লান্ত হয়ে গেলে স্নান করতেন এবং খেলা করতেন। ( নদীয়া মাহাত্ম্য) আমরা সিন্ধান্ত নিলাম এই সমস্ত স্থানগুলিতে গঙ্গাজল নিয়ে যাবো এবং প্রক্ষালন করবো,এটা ভেবে যে ঐ রমনী হয়ত কোনো ঘুরে বেড়ানো প্রেত আত্মা যিনি মুক্তির খোঁজ করছেন! মঙ্গল আরতির পর আমরা জগন্নাথ মন্দিরের পাশে খোলাবেঁচা শ্রীধরের বাড়িতে যাই। আমরা এর পরে গৌরকুণ্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা করি। যেখানে সেই সরোবর অবস্থান করতো সেখানে আমি গঙ্গাজল প্রক্ষালন করি। তারপর কাছাকাছি একটি বনাঞ্চলের দিকে যেতে বাধ্য হলাম এটা ভেবে যে হয়তো সেখানে আত্মাটি থাকতে পারে! যখনই আমি সেখানে প্রবেশ করলাম আমার পা ভারী অনুভূত হতে লাগলো,আমি হোঁচট খেলাম এবং ঘনঝোপে গিয়ে পড়ে গেলাম। পড়ে যাওয়ার দরুন আমি একটি অর্ধনিমজ্জিত,পুরনো লোহার বাক্স দেখতে পাই যা আবাদী জমিতে পোঁতা ছিলো এবং সেখানে সূর্যের আলো পৌছাতে পারতোনা যার দরুন স্বাভবিকভাবেই এটি খুঁজে পাওয়া দুস্কর ছিলো! আমি সেটি টেনে বের করলাম এবং যিনি রেকর্ডিং করেছিলেন সেই রামানুজ ভীষণ ভয়ভীত হলেন। বাক্সটি অনেক পুরনো ছিলো। লোহাটি এতই ক্ষয়প্রাপ্ত ছিলো যে হালকা স্পর্শের চাপে তা গুড়ো হতে শুরু করলো। বাক্সটি একই সময়ের পুরনো লোহার বেষ্টনী দিয়ে আবৃত ছিলো। আমরা একটি বিগ্রহ আবিষ্কার করলাম যা জংধরা ,পুরনো এবং বেষ্টনি দ্বারা আবৃত ছিলো। আমরা যখন বিগ্রহটি মুক্ত করলাম তখন অবলোকন করলাম তা মীনাক্ষীদেবী বা পার্বতীদেবীর বিগ্রহ ছিলো। বক্সের ভেতরে আমরা নিখুঁতভাবে খোদাই করা ছোট গোপাল বিগ্রহ খুঁজে পাই যা অক্ষত কাপড় এবং তুলা দ্বারা বেষ্টিত ছিলো। দুটো বিগ্রহই দৃশ্যত অনেক পুরনো ছিলো। পরবর্তীকে শ্রীজননিবাস প্রভু আমাদের এপার্টমেন্টে আসেন যেখানে আমরা বিগ্রহদ্বয়কে নিয়ে যাই। তিনি আসলেন এবং দেবীর বিগ্রহ দর্শন করলেন এবং উনাকে প্রৌঢ়মায়া হিসেবে চিহ্নিত করলেন,এটিই সেই বিগ্রহ যা শ্রীলভক্তিবিনোদ ঠাকুরের নবদ্বীপ মহিমা গ্রন্থে উল্লেখিত আছে। জননিবাস প্রভু বললেন ভক্তিবিনোদ ঠাকুর উনার নবদ্বীপ মহিমা গ্রন্থে লিখেছেন যে প্রৌঢ়মায়া আবার পুনরাবির্ভূতা হবেন এবং এর পরেই শ্রীধাম মায়াপুর আবার পুষ্ট হবে। জননিবাস প্রভু বললেন প্রৌঢ়মায়া হচ্ছেন মায়াপুর, নবদ্বীপ ধামের স্বত্বাধিকারী এবং অধিকর্ত্রী। জননিবাস প্রভু তৎক্ষনাৎ বিগ্রহদ্বয়ের সম্মুখে নিত্য-কীর্তন করতে লাগলেন। উনার সহযোগী বললেন জননিবাস প্রভু ২.৫ বছর আজ আবার কীর্তন করছেন! জননিবাস প্রভু আমাদের বিগ্রহদ্বয়ের অর্চন সম্বন্ধে নির্দেশনা প্রদান করলেন এবং বললেন প্রৌঢ়মায়ার জন্যে একটি মন্দির নির্মাণ করা একান্ত জরুরি। আমি আমার আধ্যাত্মিক পিতা শ্রীশ্রীমৎ শিবরাম গুরুমহারাজকে এ বিষয়ে অবগত করি এবং উনি এই দিব্য ঘটনার বিস্তারিত শুনতে খুবই আগ্রহী ছিলেন! তিনি আমাদের বিগ্রহদ্বয়ের পরিপূর্ণ অর্চন এবং সেবার নির্দেশনা প্রদান করলেন। পরবর্তীতে শ্রীমান কৃষ্ণচৈতন্য প্রভু,শ্রীমান মাধবহরি প্রভু এবং অন্যান্য মহান ভক্তরা আসেন এবং প্রৌঢ়মায়া এবং গোপালের দর্শন লাভ করেন। প্রৌঢ়মায়া অবশেষে মায়াপুরে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং মায়াপুর আবারো তার পূর্ববর্তী মহিমার ন্যায় পুষ্ট হবে। এটা স্পষ্ট যে প্রৌঢ়মায়া TOVP উদ্বোধনের পূর্বে প্রত্যাবর্তন করেছেন এবং আমি নিজেকে ভাগ্যবান এবং বিনয়ী অনুভব করছি এটা ভেবে যে তিনি আমাকে এবং আমার ভক্তসখাদের নির্বাচন করেছেন এই ঐতিহাসিক সেবার জন্যে! সকল বৈষ্ণবের পদরেণু এবং আশির্বাদ প্রত্যাশী। আপনাদের দাসানুদাস কার্তিকচন্দ্র দাস।

Post a Comment

0 Comments